শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১৩

মেয়েটা ছোটবেলা থেকে অসম্ভব মেধাবী

মেমোরি ধরতে গেলে ফটোগ্রাফিক, কিছুই
ভুলে না। জীবনের কোন পরীক্ষায় দ্বিতীয় হয়
নি, মেডিকেল এডমিশন টেস্টেও না।
''সমস্যা'' টা হল মেয়েটা 'সুন্দরী' না, আজীবন
জেনে এসেছে গ্রামের দিকে মেয়েদের গায়ের
রঙ নিয়ে সমস্যা হয়। কিন্তু ও ভাবেনি, ওর মত
আধুনিক পড়ালেখা জানা মেয়েকে এই
নিয়ে ভাবতে হবে।
না, অন্য মেয়েদের মত ওর ও বিয়ের প্রস্তাব
আসতে থাকে, বেশ 'ভাল ভাল' পাত্র,
ইন্জিনিয়ার থেকে শুরু করে নিজের কলেজের
ডাক্তার এমনকি নিজের সহপাঠীর পর্যন্ত।
কিন্তু সবাই এসে একই কথা বলে, মেয়ে যেহেতু
কালো, তাই জামাইকে 'খুশি' করে দিতে হবে।
মেয়ের বাবা মেয়ের জন্য দিতেও চান। কিন্তু
মেয়ের আত্মসম্মানবোথ আলাদা, নিজের
বাবাকে অপমানিত করে এমন কারো ঘরে যাওয়ার
কথা ও চিন্তাও করতে পারেনি।
এমবিবিএস শেষে অন্য বান্ধবীরা যখন ঘরকন্যায়
ব্যস্ত ,সবারই বিয়ে হয়ে গেছে, ও চলল
স্কলারশিপ নিয়ে হাভার্ডে পড়তে, পাঁচ বছর পর
ঝকঝকে দুটো ডিগ্রী নিয়ে দেশে ফিরে তার
সাবজেক্টের সর্বোচ্চ
একটা পদে চাকরি করছে দেশের সর্বশ্রষ্ঠ এক
চিকিত্সা প্রতিষ্ঠানে।
পুনশ্চঃ হাভার্ডে মেয়েটার কোর্সে ওর
ব্যাচেরই আরেকটা ছেলে ভর্তি হয়েছিল,
একদিন মুখ শুকনো করে ছেলেটা কাচুমাচু
হয়ে মেয়েটাকে বলল, ' সেই কলেজ জীবন
থেকে তোমাকে পছন্দ করি, কিন্তু এতই ভাল
স্টুডেন্ট ছিলে ধারেকাছে যেতে সাহস পেতাম
না। হয়তো জানি না কাউকে পছন্দ করো কিনা,
আমাকে বিয়ে করবে?
হতভম্ব ছেলেটা বিজলীর গতিতে একটা চড় খায়।
মেয়েটা ঝরঝর করে কেঁদে দিয়ে বলে , '
কলেজে এটা যদি বলতে গাধা, তোমার আমার
কারোর জীবনই এত বিষ হয় না, পছন্দ
করতে বুঝতে পারতাম , কিন্তু
তুমি না বললে আমি কি করতাম?'
ছেলে বলে, 'তুমি কি তাইলে রাজি না?'
মেয়েটা বলে, 'তুমি একটা মাথামোটা'
........
মোরাল অফ দি স্টোরিঃ আমার কলেজের বড় এক
আপুর কথা বললাম। সিনেমার চেয়ে মানুষের
জীবন কম বিচিত্র? আমি অভিভূত।
ছেলেদের বলব, কাউকে ভাল
লাগলে বলে ফেলবেন, মেয়েরা হয়ত
ঘোরাবে প্রথমে, তবে বাংলাদেশের
মেয়েরা এখনো অত খারাপ
না যে বেইমানী করবে।
মেয়েদের বলব, মানুষ খোঁজেন,
ডিগ্রী ধারী গাধা না।
সবাইকে বলব, ইফ ইউ আর হিউম্যান, সামওয়ান
ইজ মেড ফর ইউ, নো টেনশন। একদিন
সামনে আসবেই। :-)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন